Header Border

ঢাকা, রবিবার, ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩২°সে

পিলখানা হত্যা দিবস আজ

আবার ফিরে এলো শোকাবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি। পূর্ণ হলো পিলখানা বিদ্রোহ আর হত্যাযজ্ঞের ১২ বছর, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। আজকের এইদিনে ২০০৯ সালে দেশ হারিয়েছিল ৫৭ জন স্বর্ণ সেনাদের।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বুধবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিট। পিলখানার ভেতর থেকে ভেসে আসে গুলিবর্ষণের শব্দ।  প্রথমে সেখানে বসবাস করা অনেকেই ভেবেছিলেন নিয়মিত মহড়া। কিন্ত ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই জানা যায় সেটি ছিলো বিদ্রোহের ঘটনা।

সেদিন বিডিআর সদর দফতরে ছিল বার্ষিক দরবার। দরবার চলাকালীন একদল বিদ্রোহী সৈনিক ঢুকে পড়ে   এবং বিদ্রোহী সৈনিকেরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করা শুরু করে এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। চারটি প্রবেশ গেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে বিদ্রোহী সৈনিকেরা।

সেদিন বিকেলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীসহ দুজন এমপি  পিলখানায় ঢোকেন। বিদ্রোহী সদস্যদের হতে একটি দল  প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গমন করে। রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র সমর্পন করে কিছু সদস্য এবং জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।

পরদিন রেডিও-টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বিদ্রোহের পথ থেকে সরে আসার জন্য বিদ্রোহী সদস্যদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিদ্রোহী জওয়ানেরা অস্ত্র সমর্পণে সাড়া দেয়ার পর ২৭শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পিলখানার ভেতরে ঢোকে পুলিশ। এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, ১ জন সৈনিক, দুজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও পাঁচ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়। সর্বোপরি পিলখানায় এ  বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে  পড়ে।

ঘটনা পরবর্তীতে বিডিআরকে সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিবর্তন করা হয় বিডিআর বিদ্রোহের আইন। বর্ডার গার্ড আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয় মৃত্যুদণ্ড। বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

একজন সেনাবাহিনীর অফিসার তৈরি করতে রাষ্ট্রের কোটি টাকার উপরে ব্যয় হয়। সেনাবাহিনীর ভর্তি প্রক্রিয়া এতোটা স্বচ্ছ যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জেনারেলের সন্তানরাও বাদ পড়ে যায়, কৃষকের সন্তান সুযোগ পায়। তাদের ট্রেনিং, আবাসন, বেতন এবং পড়াশুনা কোনোটাই কম ব্যয়বহুল নয়। রাষ্ট্র তাদের যে সুযোগ দেয়, তারা এর প্রতিদান দেয় আমাদের সকল বিপদ-আপদে। সেনা কর্মকর্তারাতো ঘুষ নেননা, দুর্নীতি করছেননা, সাংবিধানিক উপায়ে তারা নিজের প্রাপ্য সুবিধাটুকুই নিচ্ছেন।
দূর্ভাগ্য আমাদের। এই সেনাবাহিনীর ৫৭ জন হাইলি ডেকোরেটেড অফিসারকে আমরা একদিনে নিজের দেশের মাটিতে মেরে ফেলেছিলাম। ২০০৯ সালের আজকের দিনে, ২৫ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বের কোথাও, এমনকি যুদ্ধকালীন অবস্হাতেও এতোজন সেনাকর্মকর্তার একই দিনে মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। আমাদের সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তণ এ্যাডজুটেন্ট স্যারও নিহত হয়েছিলেন সেইদিন, কর্নেল লুৎফুর রহমান। ক্যাডেট কলেজে পাওয়া সকল এ্যাডজুটেন্টের মাঝে লুৎফুর স্যার ছিলেন সবচেয়ে চৌকশ।
বিডিআর বিদ্রোহে মোট শহীদের সংখ্যা ৭৪। সেনাবাহিনীর অফিসার ছিলেন ৫৭। ঐ দূর্ঘটনায় নিহত সকল সামরিক এবং বেসামরিক মানুষের প্রতি আন্তরিক সম্মান জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ তাদের জান্নাতবাসী করুণ। এমন ঘটনা আর যেনো না ঘটে। বারবার আমরা চিৎকার করে কাঁদতে চাইনা…

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ থাকায় বিপাকে উচ্চাশিক্ষার জন্য বিদেশ গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীরা
লকডাউনে ভিসা এপ্লিকেশন ন্সেন্টার বা Visa Facilitation Services Global (VFS ) বন্ধ ও হাজারো শিক্ষার্থীর আর্তনাদ
দিনাজপুরে টমেটোর বাম্পার ফলন করোনায় বিপাকে কৃষকেরা
২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়লো কঠোর লকডাউন
২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি…খাদিজা আক্তার নামের একটি মেয়ে নিখোঁজ

আরও খবর